নারীর চোখে বাংলাদেশ, পর্ব-২

A A A

‘নারীর চোখে বাংলাদেশ’ স্লোগানে চার নারী ঘুরে বেড়াচ্ছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। মিশন তাদের বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ভ্রমণ করা। ইতোমধ্যে ভ্রমণ করেছেন দেশের ৫৩টি জেলা। ভ্রমণের এই পর্বের সঙ্গে আছেন সাকিয়া হক, মানসী সাহা, সিলভি রহমান আর মুনতাহা রুম্মান অর্থি। চলছে বাকি ১১টি জেলা ঘুরে বেড়ানোর প্রক্রিয়া। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে দেশ ভ্রমণ সমাপ্ত করবেন তারা। তাদের এই ভ্রমণের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা, প্রতিবন্ধকতা, আনন্দ তুলে ধরছে ক্যানভাস ডেইলি। লিখেছেন সিদরাতুল সাফায়াত ড্যানিয়েল

 

২২ মার্চ রাতে হাওরের বুকে ময়ূরপঙ্খী নৌকায় ভেসে তাদের রাতযাপনের অভিজ্ঞতা ছিল দারুণ। অন্য নৌকার তুলনায় ময়ূরপঙ্খী নৌকা আকারে বড় হওয়ায় এর থাকার জায়গাটা বেশ বড় এবং আরামদায়ক। সেই সঙ্গে টয়লেটেরও সুব্যবস্থা রয়েছে। ইলেকট্রিক জিনিসপত্র চার্জের জন্য রয়েছে জেনারেটরের সুব্যবস্থা। এককথায় হাওরের মধ্যে ভেসে থাকা একটা শান্তির ময়ূরপঙ্খী।

২৩ মার্চ সকালে মাঝি নৌকা ভেড়ায় লতিফপুরের মাঝিপাড়ায়। এখানে প্রায় ১৮টটি ঘর আছে। বেশির ভাগই মাঝি আর জেলেদের ঘর। নৌকার মাঝির বাড়িও এই পাড়াতে। এর মধ্যে মাঝি তাদের জন্য তার বাড়িতে এক বিশাল আপ্যায়নের ব্যবস্থা করে বসে। আপ্যায়ন আর বিশ্রামের শেষে, সকালে রওনা দিয়ে তারা পৌঁছায় সুলেমানপুর বাজারে। সেখানে এক মেম্বরের বাড়িতে তাদের বাইকগুলো রাখা ছিল। এরপর সেখানে থেকে তাদের গন্তব্য নিশ্চিন্তপুর ঘাটে।

সকাল ১০টা নাগাদ তারা পৌঁছে যায় নিশ্চিন্তপুর ঘাটে। ওখানে তারা একটা স্কুল পরিদর্শন করে। স্কুলের নাম ‘নিশ্চিন্তপুর ব্র্যাক শিক্ষাতরী’। বরাবরের মতো স্কুল পরিদর্শনের সময় তারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, বাল্যবিবাহ, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলেন। চার নারীর ভ্রমণের পাশাপাশি তাদের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো, সবার কাছে বাংলাদেশের গল্পকে পৌঁছে দেওয়া এবং একই সঙ্গে স্বাস্থ্য রক্ষায় নিজেদের করণীয় সম্পর্কিত তথ্য প্রদান।

জেনে রাখা ভালো, হাওরের প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে ব্র্যাকের উদ্যোগে এবং পরিচালনায় শুরু হয় এই শিক্ষাতরী প্রকল্প।

স্কুল পরিদর্শন শেষে তারা রওনা দিলেন সুনামগঞ্জ শহরের দিকে। তাহিরপুর বাজারের আগে দিয়ে ডান দিকের একটা রাস্তা চলে যায় সুনামগঞ্জ শহরের দিকে। রাস্তা বেশ ভালো। ৪টার মধ্যে পৌঁছে যায় সুনামগঞ্জ শহরের জিরো পয়েন্টে। দুপুরের খাওয়াদাওয়া আর বিশ্রাম শেষে সুনামগঞ্জ শহর থেকে রওনা দেয় সিলেট শহরের উদ্দেশে। প্রায় ৬৯ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে রাত সাড়ে আটটা নাগাদ তারা সিলেট শহরে এসে পৌঁছান।
আজকের মতো তাদের যাত্রা এখানেই সমাপ্তি।

সিলেটে ঢোকার মধ্য দিয়ে এই চার কন্যার বাইক ভ্রমণের ৫৪ জেলা হলো। আজ ২৪ মার্চ তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সিলেট শহরের একটা স্কুল পরিদর্শন করতে যাবেন । পরে সেখান থেকে রওনা দেবেন নবীগঞ্জের উদ্দেশে।

Leave a Reply

*